‘আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য বই ছাপিয়েও শিক্ষক সংকট থাকায় পাঠদান না হওয়ায় অর্থের অপচয় হচ্ছে। আর তাই সমস্যা সমাধানে ডিজিটাল ক্লাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যা দেখে শিক্ষার্থীরা শিখতে পারবে এবং অন্য শিক্ষকরাও দেখে দেখে শিখতে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতে পারবেন। বইগুলো বেকার পড়ে থাকবে না। এটি হলে কিছুটা হলেও সমস্যার সমাধান হবে। আর যারা এসব ভাষা জানেন তাদের দিয়ে সুন্দর সুন্দর লেকচার তৈরি করা হচ্ছে।’-বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
রবিবার বেলা ১১টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় ডা. বিধান রঞ্জন আরও বলেন, ‘আমাদের একটি বড় সমস্যা নির্দিষ্ট ভাষার শিক্ষক নিয়োগ করা। আমাদের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার যে কাঠামো রয়েছে তাতে আমরা দেখি ওই ভাষার শিক্ষক টিকতে পারছেন না। পার্বত্য চট্টগ্রামে নিয়োগ প্রক্রিয়া তাদের নিজস্ব। ফলে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা আছে। শিক্ষকেরও সংকট আছে, খুঁজে পাওয়াও কঠিন। আমরা আশু সমাধানের জন্য যা করব তা হলো, সমস্যা সমাধানের জন্য ডিজিটাল ক্লাসের ব্যবস্থা করা।’
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ১০ম গেুডের দাবী ও আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা একটি সুচিন্তিত মতামত দেয়ার জন্য পরামর্শক কমিটি তৈরি করেছিলাম। সেখানে দেশের বরেণ্য শিক্ষাবিদ এবং প্রাথমিক শিক্ষার সাথে যুক্ত ব্যবস্থাপকদের যুক্ত করা হয়েছিল। তারা দীর্ঘ তিন মাস বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন গ্রæপের দাবির বিষয়গুলো শুনেছেন। এরপর আমাদের সুনির্দিষ্ট মতামত দিয়েছেন। তারা পরামর্শ দিয়েছে, প্রাথমিকে শিক্ষকরা ঢুকবে ১৩তম বা ১২তম গ্রেডে। এরপর প্রশিক্ষণ নিবেন এবং তাদের চাকরি স্থায়ী হবে দুই বছরে। চাকরি করার পর সবমিলিয়ে ৪ বছর পর তাদের পদোন্নতি হবে। পদোন্নতি পেয়ে জ্যৈষ্ঠ বা সিনিয়র শিক্ষক হবেন, এটি ১১ গ্রেড হবে।’
উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, ‘যখন ১১তম গ্রেড হবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ সহকারী প্রধান শিক্ষক হবেন এবং তখন তারা আলাদা বাড়তি একটা ভাতা পাবেন। এখন যারা প্রধান শিক্ষক হন, তাদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ পদোন্নতি ও ৩৫ শতাংশ সরাসরি নিয়োগ হবেন। তারা এই পদ্ধতিকে বাতিল করে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ শত ভাগ পদোন্নতির মাধ্যমে করার সুপারিশ করেছে পরামর্শক কমিটি। তবে সেক্ষেত্রে কিছু নিয়ম থাকবে। প্রধান শিক্ষক হতে নূন্যতম কি যোগ্যতা প্রয়োজন ? সহকারী প্রধান শিক্ষক বা সিনিয়র শিক্ষকদের যেকেউ প্রধান শিক্ষক হতে পারবেন। তখন তাদের গ্রেড হবে ১০ম। আবার প্রধান শিক্ষকদেরও পদোন্নতির ব্যবস্থা থাকবে। এসব প্রস্তাবকে আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে। এমনকি শিক্ষকদেরও বেশিরভাগই এটিকে গ্রহণ করেছে। এটি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব।’
মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে জেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় কালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আরো বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য লাইব্রেরি গড়ে তোলা দরকার। কারণ দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা তাদেরকে উপযুক্তভাবে গড়ে তুলতে পারছি না। পাঠ্য বইয়ের পাশাপাশি তাদেরকে অন্যান্য কার্যক্রম যেমন খেলাধুলা, নাচ, গান, ছবি আঁকানোয় আরও বেশি আগ্রহী করে গড়ে তুলতে হবে। এছাড়াও শিক্ষকদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।’
এ সময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুস সামাদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. নাকিব হাসান তরফদার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জেহের আলী, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের জেলা-উপজেলার বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন