বর্তমানে কর্মজীবনে ইমেইল একটি নিত্যদিনের যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে ছুটি চাওয়া বা কোনো ইস্যুতে ফলো-আপের মতো ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মেইলে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এখন অনেকের মাঝেই ভীতি কাজ করছে।
বিশেষত, জেন-জির কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই উদ্বেগ মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ও কর্মদক্ষতার ওপর বিরূপ প্রভাবও ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করছেন মনোবিজ্ঞানীরা।
এ বিষয়ে, ভারতীয় মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ এবং স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. রাজীব মেহতা জানিয়েছেন, ডিজিটাল যুগে বেড়ে ওঠা জেন-জি কর্মজীবনে প্রবেশ করে প্রাথমিক পর্যায়েই ইমেইল আদান-প্রদান সংক্রান্ত নানা উদ্বেগে ভুগতে।
তার মতে, যথাযথ টোন, সাইন-অফ, ইমোজির ব্যবহার কিংবা কখন ফলো-আপ করা উচিত—এসব বিষয়ে অনিশ্চয়তা থেকে তারা অতিরিক্ত চিন্তায় পড়ে যান। অনেক সময় ইমেইলের প্রতিটি শব্দ নিয়ে এতটা ভাবেন যে তা পাঠাতে বিলম্ব হয় এবং বানান ভুলকে বড় সমস্যা মনে হয়।
এই উদ্বেগের ফলাফল হিসেবে দেখা যায় মনোযোগে ঘাটতি, উৎপাদনশীলতায় পতন, এমনকি কর্মস্থলে অনুপস্থিতির হারও বাড়ে। পাশাপাশি, নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ভয়, নেতৃত্ব নিতে অনীহা এবং আত্মবিশ্বাসের অভাবও পরিলক্ষিত হয়।
আবার, সরাসরি কথা বলা এড়িয়ে চলতে অনেকেই ইমেইলের উপর নির্ভর করে থাকেন। এটি অ্যানজিয়াস-অ্যাভোয়েড্যান্ট বিহেভিয়ারের (anxious-avoidant behaviour) লক্ষণ। এতে ব্যক্তিত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
এসব সমস্যা সমাধানে হোমসফাই রিয়েলটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নেহা মিশ্রা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যেসব কৌশল নিতে পারে, তা শেয়ার করেছেন হিন্দুস্তান টাইমসের সঙ্গে। নিম্নে সেগুলো উল্লেখ করা হলো।
১. কর্মীদের স্বীকৃতি দেওয়া: নির্দিষ্ট সময় পর পর কর্মীদের স্বীকৃতি দেওয়া বা পুরস্কৃত করার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি তাদের মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে। নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা, পেশাদারি কোলাবরেশনের নানা দিক বিবেচনায় কর্মীদের মাসিক স্বীকৃতি দিতে পারে প্রতিষ্ঠানগুলো।
২. ওয়েলনেস উইক: প্রাতিষ্ঠানিক ক্যালেন্ডারে ‘ওয়েলনেস উইক’ যুক্ত করা যেতে পারে। এতে কর্মজীবীরা অন্তঃদপ্তর ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও ইয়োগা সেশনসহ অন্যান্য শারীরিক কসরতের মাধ্যমে মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হতে পারেন।
৩. কাউন্সেলিং সিস্টেম: কাউন্সেলিংসহ সকল সহায়তামূলক সিস্টেম গড়ে তোলার মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবীরা মানসিক অবসাদ থেকে পরিত্রাণ পেতে পারেন সহজে। তবে সেই সিস্টেমগুলোকে অবশ্যই অভিযোজনমূলক ও কার্যকর হতে হবে।
৪. মুড সার্ভে: প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মানসিক অবস্থা যাচাইয়ে নিয়মিত মুড সার্ভে চালালেও তাদের মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হওয়ার পথ সুগম হতে পারে। এতে সার্ভে পরিচালনাকারীদের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন শাখার প্রধানেরা কর্মীদের উন্নয়নের জন্য সহজেই বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
সর্বোপরি, কর্মস্থলে কর্মীদের শতভাগ কর্মদক্ষতা এবং সামষ্টিক অর্জন নিশ্চিতে সকলের মানসিক চাপ কমাতে এই পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
• হিন্দুস্তান টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত