জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ধর্ষণ ও নিপীড়নমুক্ত ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠায় পাঁচ দফা দাবিতে নিপীড়ন বিরোধী সংহতি সমাবেশ করেছে শিক্ষক – শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্লাটফর্ম নিপীড়ন বিরোধী মঞ্চ।
শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারী) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে এ সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
দাবিগুলো হলো – ধর্ষক ও তার সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের হল থেকে বের করে গণরুম বিলুপ্তপূর্বক নিয়মিত শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করতে হবে এবং র্যাগিং সংস্কৃতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।নিপীড়ক শিক্ষক মাহমুদুর রহমান জনির বিচার নিষ্পত্তি করা সহ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সময়ে নানাবিধ অপরাধে অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।নিপীড়কদের সহায়তাকারী প্রক্টর ও মীর মশাররফ হোসেন হলের প্রভোস্টের অপরাধ তদন্ত করতে হবে এবং সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে তদন্ত চলাকালে প্রশাসনিক পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করতে হবে। মাদকের সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে, জড়িতদের ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণাপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনিছা পারভীন বলেন, ‘ সময় বদলেছে কিন্তু শিরোনাম বদলায়নি। ১৯৯৮সালের ১৭ই আগস্ট দৈনিক পত্রিকার শিরোনাম হয়েছিল ক্যাডাররা ধর্ষণ করেছে তিন ছাত্রীকে। এ ক্যাডাররা হলো ছাত্রলীগের ক্যাডার। আবার ঠিক এমনই ঘটনা ঘটেছে ক্যাম্পাসে। ঠিক এখানেও জাড়িত শাখা ছাত্রলীগের ক্যাডার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। এসব ঘটনার দায় ছাত্রলীগ কোনোভাবেই এড়াতে পারেনা।’
প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিভাগের অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত বর্বর। শিক্ষার্থীদের এই ঘটনায় আমরা অত্যন্ত লজ্জিত। যে শিক্ষার্থীরা প্রথম ক্যাম্পাসে আসে তারা ধর্ষক হয়ে আসেনা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিচারহীনতার মাধ্যমে আজকে এই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ অনুকূল পরিবেশের কারণে এমন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি সক্রিয় থাকতো, তাহলে আজকে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটতো না। আমাদের সহকর্মী যৌন নিপীড়নকারী অথচ তাদের বিচার হয়নি। আমাদের সময় এসেছে সংগ্রাম করে জাহাঙ্গীরনগরে পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার।
সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক শামসুল আলম সেলিম বলেন, কারা হলে সিট বাণিজ্য করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা মাদক বাণিজ্য করছে তার সঠিক তদন্ত করে তা নিষ্পত্তিতে প্রশাসনকে তৎপর হতে হবে। আমরা প্রশাসনকে তাদের কার্যক্রমসমূহকে খোলাসা করার দাবি জানাচ্ছি।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি কনোজ কান্তি রায় বলেন, ক্যাম্পাসে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন লাগামহীন ভাবে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়েছে। তাদেরকে সহায়তা করছে প্রশাসন। আমাদের আবেগ আছে সত্যের প্রতি,আমরা তাদের রক্তচক্ষু কে ভয় পাই না। আমাদের পিছনে ফিরিয়ে দেবার সুযোগ নেই। আলটিমেটামের শেষ দিন আগামী সোমবারের মধ্যে অছাত্রদের বের করতে না পারলে, প্রমাণিত হয়ে যাবে যে প্রশাসনই শিক্ষার্থীদের শত্রু। নিরাপদ ক্যাম্পাসের জন্য আমরা সবাই মিলে দায়িত্ব পালন করছি, করবো।
এসময় সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান বলেন, জাহাঙ্গীরনগর থিয়েটার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাথী মজুমদার, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক সামি আল-জাহিদ প্রিতম, শাখা ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন প্রিন্স, শাখা ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি সুস্মিতা মরিয়ম, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মাহি মাহফুজ প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মীর মশাররফ হোসেন হলের ৩১৭ নম্বর কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে পাশের একটি জঙ্গলে স্ত্রীকে ধর্ষণ করে বহিরাগত মামুনুর রশীদ ও শাখা ছাত্রলীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পদক মোস্তাফিজুর রহমান।
রবিউল হাসান