রাবি প্রতিনিধি:সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়ে রাষ্ট্রপতির নিকট দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর দেয়া এক আবেদনপত্রে এ দাবি জানানো হয়।
আজ দুপুর দেড়টা সময় গণপদযাত্রা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের নিকট এই স্মারক লিপি তুলে দেয়।
আবেদনপত্রে শিক্ষার্থীরা বলছেন, ২০১৮ সালের পরিপত্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে নাই। শিক্ষার্থীরা সকল গ্রেডের সরকারি চাকরিতে কোটার যৌক্তিক সংস্কার চেয়েছিল। প্রথমত, কোটার অসহনীয় মাত্রা মানে দেশের লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীদের দাবি ও আন্দোলনের সাথে রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রহসন। মুক্তিযুদ্ধের যে মূলমন্ত্র সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার তা নিশ্চিত করতে ও একটি দক্ষ প্রশাসন গড়তে মেধাভিত্তিক নিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। দ্বিতীয়ত, কোটা পদ্ধতি না থাকলে নাগরিকদের অনগ্রসর অংশ প্রজাতন্ত্রের কর্মে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব লাভ থেকে বঞ্চিত হবে। তৃতীয়ত, উক্ত পরিপত্রটি শুধু ১ম ও ২য় শ্রেণির সরকারির চাকরির জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে ৫ শতাংশ কোটাকে ছাত্রসমাজ যৌক্তিক মনে করে।
শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকারি চাকরির সকল গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল করে সংবিধানে উল্লিখিত অনগ্রসর গোষ্ঠী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের জন্য কোটাকে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ন্যূনতম পর্যায়ে (সর্বোচ্চ ৫%) এনে সংসদে আইন পাস করে কোটা পদ্ধতিকে সংস্কার করতে হবে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক শামীম আহমেদ বলেন, শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে এসেছেন এবং যে দাবি জানিয়েছে, এটা যথাযথ মর্যাদায় মাননীয় রাষ্ট্রপতির নিকট পাঠানো হবে। সংশ্লিষ্টারা এ দাবির বিষয়ে যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এর আগে, বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে গণপথযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। নগরীর তালাইমারী, সাহেব বাজার ও সি এন্ড বি হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় উপস্থিত হন তারা। এসময় রাষ্ট্রপতি কাছে চাকরির সকল গ্রেডে কোটার যৌক্তিক সংস্কার দাবি জানিয় জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনপত্র জমা দেন আন্দোলনকারীরা। পথযাত্রায় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী কলেজ সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেন।