ওটস দিন দিন স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সকালের নাশতায় এটি ঝটপট ও পুষ্টিকর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শুধু দ্রুত প্রস্তুত হওয়ার কারণে নয়, বরং ওজন নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্যের অন্যান্য উপকারিতার জন্যও এটি বিশেষভাবে পরিচিত।
পুষ্টিবিদদের মতে, ওটস ফাইবার সমৃদ্ধ ও পুষ্টিকর একটি খাবার। এতে কার্বোহাইড্রেট, আয়রন, প্রোটিন, ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসহ নানা উপকারী উপাদান রয়েছে। ভাতের বিকল্প হিসেবেও এটি কার্যকর হতে পারে।
জেনে নেওয়া যাক্ ওটসের পুষ্টিগুণ উপকারিতা সম্পর্কে এবার।
১. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ:
ওটসে থাকা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার ধীরে হজম হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করে। ফলে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি একটি উপকারী খাবার।
২. ওজন কমাতে সহায়ক:
উচ্চ ফাইবারযুক্ত ওটস দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে, ফলে ক্ষুধার অনুভূতি কমায় এবং শর্করাজাতীয় খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে। এতে থাকা বিটা-গ্লুকান নামক উপাদান ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে, যা ক্যালরি গ্রহণ কমিয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৩. হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়:
ওটসে উপস্থিত বিটা-গ্লুকান খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সহায়তা করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে এবং হার্টকে সুস্থ রাখে।
৪. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি:
ওটস প্রিবায়োটিক খাবার হিসেবে অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি促 (উৎসাহিত) করে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
৫. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে:
উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকার কারণে ওটস হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে ও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সহায়ক। কলা, আপেল, খেজুর বা বাদামের সঙ্গে ওটস খেলে এটি আরও উপকারী হয়।
ওটস শুধু দ্রুত প্রস্তুত হওয়া স্বাস্থ্যকর খাবার নয়, এটি শরীরের সামগ্রিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিনের ডায়েটে ওটস যোগ করা যেতে পারে।