প্রবাসী আয়কে উৎসাহিত করতে সরকার করমুক্ত সুবিধা ও নগদ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। তবে এই সুবিধার অপব্যবহার করে এক ব্যবসায়ী বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশে এনেছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
আজ সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআরের রাজস্ব ভবনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) ও বিসিএস কর ক্যাডারদের এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন। তবে ওই ব্যক্তির নাম ও পরিচয় প্রকাশ করেননি।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ৭৩০ কোটি টাকা প্রবাসী আয়ের নামে দেশে আনার বিষয়টি কর কর্মকর্তাদের সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নাম না বলাই ভালো। তবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর তখনই সবাই তাঁর পরিচয় জানতে পারবেন।’
বর্তমানে বৈধ চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠালে করমুক্ত সুবিধা এবং ২.৫% নগদ প্রণোদনা দেওয়া হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে এই সুবিধা নিয়েছেন বলে এনবিআর সন্দেহ করছে।
সাংবাদিকরা দেশে প্রত্যক্ষ কর বাড়লেও অর্থনৈতিক বৈষম্য কেন কমছে না জানতে চাইলে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, প্রকৃত প্রবাসীরা কঠোর পরিশ্রম করে বৈধ পথে আয় পাঠান, যা করমুক্ত রাখা হয়েছে। কিন্তু এই সুযোগ ব্যবহার করে অনিয়মের মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আপনারা শুনলে অবাক হবেন, এক ব্যক্তি ৭৩০ কোটি টাকা এনেছেন এবং দাবি করেছেন এটি ওয়েজ আর্নার্স আয়, যা করমুক্ত। এই ধরনের অনিয়মই অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়িয়ে দিচ্ছে।’
এনবিআর চেয়ারম্যান আরও জানান, দেশে ১ কোটি ১৩ লাখ টিআইএনধারী থাকলেও রিটার্ন দাখিল করেন মাত্র ৪০ লাখ করদাতা। এ সমস্যা সমাধানে ব্যাংকের সঙ্গে সংযুক্ত করে করের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।
সভায় ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা করদাতাদের ভয়ভীতি দূর করা এবং কর সংক্রান্ত তথ্য অনলাইনে নিয়মিত হালনাগাদ করার পরামর্শ দেন।