বিশেষ প্রতিনিধি: বিমসটেকের (বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন) পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে চলেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বুধবার (২ এপ্রিল) ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত ড. খলিলুর রহমান এই তথ্য জানান।
বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিতব্য বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে দেশটিতে যাচ্ছেন অধ্যাপক ড. ইউনূস। এই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ড. খলিলুর রহমান জানান:
❝বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেতে চলেছেন আমাদের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। বিমসটেকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সদস্য দেশগুলোর প্রধানদের সঙ্গে আগামী করণীয় নির্ধারণ প্রসঙ্গে আলোচনার আয়োজন করবেন তিনি।❞
রোহিঙ্গা সংকট বিমসটেকের আলোচ্যসূচিতে না থাকলেও বাংলাদেশ কূটনৈতিক পর্যায়ে এ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন দেশের প্রভাবশালীদের সঙ্গে সংলাপে বসারও চেষ্টা করবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে বিশেষ দূত বলেন, “আমরা একেবারে নিশ্চুপ থাকবো না। সম্ভাব্য সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবো।”
এ সময়, সম্প্রতি চীন সফরের সময় অধ্যাপক ইউনূসের দেওয়া বক্তব্য নিয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে ড. খলিলুর রহমান জানান:
ড. ইউনূস আগেও একই বিষয়ে মতামত দিয়েছেন। ২০২৩ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীও দিল্লিতে একই বিষয়ে আলোচনা করেছিলেন, যা ‘বিগ বে ইনিশিয়েটিভ’ নামে সমাদৃত হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক ইউনূস দায়িত্ব গ্রহণ করবেন থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী থেকে। এতে বাংলাদেশ সংগঠনের কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবে। এবারের সম্মেলনে ‘বিমসটেক ব্যাংকক ভিশন ২০৩০’ নামক কৌশলপত্র গৃহীত হবে, যা সংগঠনটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কানেক্টিভিটি বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য বেশ কিছু বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বিমসটেক গঠনের ২৫ বছর পরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি, তবে এবার কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়।
সম্মেলনের প্রথম দিনে ইয়ুথ কনফারেন্সে যোগ দেবেন অধ্যাপক ইউনূস, পরদিন তিনি মূল সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং তিনটি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।