কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলাকারীদের সাথে ক্লাস ও পরিক্ষা বর্জনের হুশিয়ারী দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগ ও ২টি ইনস্টিটিউটের একাধিক ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এটি প্রচার করে হামলাকারীদের হুশিয়ারী দেন।
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ১৫-১৮ ব্যাচ, জবির শিক্ষার্থীরা বলেছেন যে, যদি আমাদের ব্যাচমেটদের মধ্যে কেউ আজ বা ভবিষ্যতে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী কিংবা আমাদের ভাই-বোনদের ওপর আক্রমণের সাথে জড়িত থাকে, তাহলে এর প্রমাণ পাওয়া গেলে, তাকে আমরা আমাদের ব্যাচ থেকে বর্জন করবো এবং আমাদের সাথে কোনো ক্লাস বা পরীক্ষায় সে অংশগ্রহণ করতে পারবেনা।
তাকে ব্যাচ থেকে বয়কট করা হবে।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, ইসলামিক স্টাডিজ ১৬তম ব্যাচ, জবি – এর কোনো ব্যাচমেট যদি আজকে বা আগামীতে সাধারণ ছাত্রছাত্রী তথা আমাদের ভাই বোনদের উপর আক্রমণের সাথে সম্পৃক্ত থাকার কোনো প্রমান পাওয়া যায়, তাহলে তাকে আমরা আমাদের ব্যাচ থেকে বর্জন করবো এবং আমাদের সাথে কোন ক্লাস বা পরীক্ষায় সে অংশগ্রহণ করতে পারবেনা। তাকে ব্যাচ হতে সামগ্রিক ভাবে বয়কট করা হবে।
ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, ইংরেজি, ইতিহাস ও রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বলেন, সাবধান! আমাদের ক্লাসের বা ডিপার্টমেন্টের কেউ যদি সাধারণ শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন তাহলে উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে বা তাদেরকে ক্লাস এবং ডিপার্টমেন্টের যেকোনো প্রকার কাজ হতে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে। আমরা কোনো সন্ত্রাসীর সাথে একই শ্রেণীকক্ষে ক্লাস করতে রাজি নই। প্রায় সকল অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই বাক্য লেখে হামলাকারীদের বর্জন করার হুশিয়ারি দিয়েছেন।
এছাড়াও অনেক শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বলেন, আমার ফ্রেন্ডলিস্টে যারা ছাত্রলীগের আছেন তারা আনফ্রেন্ড হয়ে যান। আপনাদের সাথে কোনো সম্পর্ক না থাকুক। আমার ভাই বোনদের সাথে আপনারা হিংস্র পশুর মতো আচরণ করছেন। অনেকেই বিভাগ ছাত্রলীগের কমিটি থেকেও পদত্যাগ করছেন।
মাহমুদুল হাসান মামুন
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়