একের পর এক দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদত্যাগ করেছে। গত বৃহস্পতিবার (৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) উপাচার্য পদ শুন্য হওয়ার পর উপাচার্য পদে কাকে নিয়োগ দেওয়া হবে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
বুটেক্সের না বরং বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে শিক্ষার্থীরা উপাচার্য হিসেবে প্রত্যাশা করলেও শিক্ষকরা চান ভিন্ন কিছু। বুটেক্সে বর্তমানে গ্রেড-১ এবং গ্রেড-২ হিসাব করলে অধ্যাপক আছেন ১০ জন। শিক্ষকরা চান তাঁদের থেকেই যোগ্যতম একজনকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়া হোক।
বুটেক্স শিক্ষক সমিতি মনে করে, বুটেক্সের উপাচার্য কেবল বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রতিনিধিত্ব করে না বরং দেশের সমগ্র টেক্সটাইল সেক্টরকে প্রতিনিধিত্ব করে। টেক্সটাইল সেক্টরের গুরুত্ব বাইরের সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের জন্য বোঝা দুরূহ। বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক উপাচার্য পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হলে সেই উপাচার্য টেক্সটাইল সেক্টরকে প্রতিনিধিত্ব নাও করতে পারে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ অনুসারে, উপাচার্য হতে হলে বস্ত্র বিজ্ঞান, বস্ত্র প্রকৌশল, বস্ত্র প্রযুক্তি বা বস্ত্র ব্যবস্থাপনা শিক্ষার সহিত সম্পৃক্ত অধ্যাপক হতে হবে। এটা উল্লেখ করে শিক্ষক সমিতি মনে করেন, বুটেক্সের উপাচার্য টেক্সটাইল ব্যাকগ্রাউন্ডের হতে হবে।
বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে উপাচার্য করা হলে তিনি আমাদের ক্যাম্পাসকে কতটা আপন করে নিবে, আমাদের প্রতি কতটা আন্তরিক থাকবে এবং দেশের বাইরের কেউ যদি ভিসি হন তবে তিনি দেশের প্রশাসনিক বাস্তবতার সাথে কতটা মেনে নিতে পারবেন তা নিয়ে শিক্ষকরা সন্দেহ পোষণ করেন। বুটেক্সের কেউ ভিসি হলে ভিসির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও বুটেক্সে তাঁর চাকরির মেয়াদ থাকবে। এতে করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যাবে।
শিক্ষকরা বলেন, টেক্সটাইল ব্যাকগ্রাউন্ডের না এমন কেউ যেন বুটেক্সের উপাচার্য না হন। বুটেক্স টেক্সটাইল প্রকৌশলে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়। যদি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপক বুটেক্সের উপাচার্য হয় তাহলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষায়িত গুণাগুণ হারাবে এবং ফলস্বরূপ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর হতে পারে।