Home » news » “শুক্র-শনি ও বিকাল ৫টার পর রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অসুস্থ হওয়া নিষেধ”
“মেডিকেল সেন্টারের সেবা পেতে হলে শুক্র-শনিবার এবং বিকাল ৫টার পর আর আমাদের অসুস্থ হওয়া নিষেধ” বলে শুক্রবার অভিযোগ করছিলেন ফুটবল খেলতে গিয়ে আহত হওয়া রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী রাজিব।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের সেবার মান নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। চিকিৎসক-নার্স সংকট, ওষুধের অপর্যাপ্ততাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে মাত্র চারজন ডাক্তার আর এক জন নার্স দিয়ে খুড়িয়ে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার।
ইসিজি, ব্লাড প্রেশার ও ডায়বেটিস নির্ণয়সহ জরুরি সেবা দেওয়ার কথা থাকলেও গত ছয় মাসে সেবা পেয়েছে এমন কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় ঔষধ দেওয়ার কথা থাকলেও বছরজুড়েই থাকে সংকট।
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. ওবায়দুর রহমান শিশির সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে লিখেছেন,
“বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এটা কি মেডিকেল নাকি সার্কাস?
কোনো প্রয়োজনীয় ওষুধ নেই। চারটা প্রেসক্রাইব করলে দুটাই থাকে না। তাহলে এই সার্কাস চালানোর মানে কি?”
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার নিয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের এ রকম আরও অনেক অভিযোগের পাহাড় জমেছে।
বিকেল ৫টার পর কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এম্বুলেন্স ব্যাবহার করতে হলে তাকে পড়তে হয় আরেক বিড়ম্বনায় প্রথমে জানাতে হয় চিফ মেডিকেল অফিসারকে সেখান থেকে অনুমতি মিললে এম্বুলেন্স ড্রাইভারকে জানানোর পর গুনতে হয় প্রহর, কখন পৌছাবে আট কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের একমাত্র ভরসা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
হাসপাতালের নানা ঝামেলা শেষ করে চিকিৎসা নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরতে হলে গুনতে হবে চার থেকে পাঁচশত টাকা কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের এম্বুলেন্স শুধু পৌঁছে দেয়।
এ বিষয়ে চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়ার বলেন,
“জরুরি সেবা হলেও লোকবল কম থাকায় ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা সম্ভব নয়।”
ঔষধ সংকট এবং ইসিজির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, “প্রাইমারি ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়। তাই কমন ডিজিজগুলো মাথায় রেখে ওষুধ সংরক্ষণ করা হয় এবং ইসিজি মেশিন আছে তবে কার্ডিওলজিস্ট না থাকায় প্রেসক্রাইব করা সম্ভব হচ্ছে না।”
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিবেন বলে শিক্ষার্থীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. শওকাত আলী শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছেন।
আরএস//বিএন