চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আর্থিক লেনদেন করার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের সহযোগীতায় বুধবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে তাদের আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। এসময় তাদের কাছ থেকে তিনটি ব্লাঙ্ক চেক ও তিনটি নন-জুডিশিয়াল ফাঁকা স্ট্যাম্প পাওয়া যায়। পরে তাদের র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এঘটনায় ভুক্তভোগীদের একজন ওমর ফারুক গাজিপুরে গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার মিনারপারা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত মো. আফসার আলী প্রামানিক।
অন্যদিকে চাকরির প্রলোভনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে আটককৃত প্রতারকচক্রের সদস্যরা হলেন- রাজশাহীর দূর্গাপুর থানার পালশা হাট কানপাড়া এলাকার নান্টু রহমানের ছেলে মো. সিজান (২২), চৌবাড়িয়া এলাকার বদরুদ্দিনের ছেলে রাসেল মাহমুদ (২২), পালশা এলাকার সাবের আঁকার ছেলে কদর আলী (২৮) এবং পুঠিয়া থানার মো. বেলাল হোসেনের ছেলে শিমুল আলী (২০)।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী ওমর ফারুক বলেন, ‘প্রথমে এনামুল কবির আমাকে বলে যে, “অমুক দিন জয়েন হবে। তোমার কাগজপত্রগুলো দিলে চাকরি হয়ে যাবে”। কাগজপত্র দেওয়ার পরে জানায়, অমুক দিন পুলিশ ভেরিফিকেশন হবে। এটার জন্য পনেরো হাজার টাকি দাবি করলেও আমি ছয় হাজার টাকা দিয়েছি। এরপর বলে যে, অমুক দিন তোমার জয়েন। এজন্য আজ এখানে (রাবি) এসেছি। টাকাপয়সার কোনো ডিল হয়নি। তবে বলেছিল, চাকরি হওয়ার পরে খুশি হয়ে কিছু দিলেই হবে’।
আটককৃতদের একজন রাসেল মাহমুদও নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করেন। নিজেকে এক চাকরি প্রত্যাশীর ভাই দাবি করে তিনি বলেন, এনামুল নামে এক বড়ভাই আমার ভাইয়ের চাকরির কথা বলে তিনটি ব্লাঙ্ক চেক আর তিনটা স্ট্যাম্প নিয়ে এখানে (রাবি) আসতে বলেছেন। ওনার বাসা কোথায় জানিনা, কিন্তু উনি রাজশাহীতে এসে দেখা করে গেছেন। দুই লাখ টাকার বিনিময়ে আমার ভাইকে সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখানে আসার পরে স্যাররা আমাকে ধরে নিয়ে এসেছে।
আটককৃত বাকিরা দাবি করেন, তারা মোবাইল কেনার জন্য ক্যাম্পাসে এসেছেন এবং ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতেছিলেন।
এবিষয়ে রাবির প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক বলেন, গোয়েন্দা সূত্রে আমরা জানতে পারি যে, একটা গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আর্থিক লেনদেন করছে। এরপর আমরা প্রক্টরিয়াল বডি এবং গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনের সাহায্য নিয়ে তাদের আটক করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসি। তাদের কাছ থেকে ব্লাঙ্ক চেক এবং নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পাওয়া গেছে। পরে তাদেরকে র্যাবের হাতে তুলে দিয়েছি। ভুক্তভোগী মামলা করার পরে বিষয়টা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরো তদন্ত করবে। মনে হচ্ছে, এটার সঙ্গে আরো বড় চক্র জরিত রয়েছে।